১৯ জুলাই পর্দা নেমেছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপের। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে স্পেন। তবে ম্যাচ শেষ হলেও ফাইনাল ঘিরে বিতর্ক থামেনি। রেফারিং ও ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবিতে আর্জেন্টিনায় একটি অনলাইন প্রচারণা শুরু হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে ৬১ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।
চেঞ্জডটওআরজি প্ল্যাটফর্মে গিসেলা সানচেজ নামে এক আর্জেন্টাইন ফুটবল সমর্থক এই পিটিশন চালু করেন। আবেদনে ফিফার কাছে ফাইনালের দায়িত্বে থাকা স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের পারফরম্যান্স এবং ম্যাচে ব্যবহৃত ভিএআর সিদ্ধান্তগুলো পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়েছে।
পিটিশনের উদ্যোক্তার অভিযোগ, ম্যাচে এমন কিছু রেফারিং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যা খেলার গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি তিনি কয়েকটি অনিয়মের কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো যাচাইকৃত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তবুও তিনি পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য ফিফার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে ক্রীড়া আইন ও ফিফার প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো ম্যাচ পুনরায় আয়োজনের জন্য বিশেষ ও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি প্রয়োজন হয়। শুধুমাত্র অনলাইন পিটিশন বা জনমত কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ফলাফল পরিবর্তন করতে পারে না এবং এমন আবেদনের কোনো বাধ্যতামূলক আইনি বা আনুষ্ঠানিক বৈধতাও নেই।
বিশ্বকাপ চলাকালে এটিই প্রথম এমন উদ্যোগ নয়। এর আগে ফ্রান্সেও একটি অনলাইন ক্যাম্পেইনে ৮২ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছিলেন। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে একটি বিতর্কিত ঘটনার পর ম্যাচটি পুনরায় আয়োজন করা হোক। তবে সেই আবেদনও কোনো ফল বয়ে আনেনি।
উল্লেখ্য, ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত করে স্পেন। শিরোপা হাতছাড়া হলেও আর্জেন্টিনাজুড়ে সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে লিওনেল মেসি ও দলের প্রতি সমর্থন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে ম্যাচ পরবর্তী সময়ে কিছু স্থানে পুলিশের সঙ্গে সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।


